মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

ভাষা ও সংস্কৃতি

ভাষা, সংস্কৃতি ও স্বাধীনতা

ভিয়েতনাম ছাড়া খুব কম দেশই বাংলাদেশের মতো আন্দোলন-সংগ্রাম ও সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হয়েছে। এই বাংলাদেশই ছিল এক সময় পূর্ব পাকিস্তান। ধর্মরাষ্ট্র পাকিস্তানের একটা প্রদেশ। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর পাকিস্তানের জন্ম। পাকিস্তান হচ্ছে মূলত একটা মুসলিমপ্রধান ধর্মরাষ্ট্র। ৩০ ও ৪০ এর দশকে ভারতীয় মুসলমানদের একাংশ ভারতীয় কংগ্রসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত হয়ে মুসলিম লীগের নেতৃত্বে পাকিস্তানের জন্ম দেন। এ অঞ্চলে মুসলমানরাও পিছিয়ে ছিল না। ১৯৪০ সালে তৎকালীন মুসলিমদের নেতা শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের দেয়া লাহোর প্রস্তাবে ভারত স্বাধীন হলে যে ধরনের রাষ্ট্রের রূপরেখা দিয়েছিলেন সেভাবে ভারত বিভক্ত হয়নি। বরং পাকিস্তানের জন্ম হয়েছে পাকিস্তানের শাসকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী। এ উপমহাদেশের মুসলমাদের জন্য একটা পৃথক রাষ্ট্র গঠনই ছিল পাকিস্তানের মূল লক্ষ্য। অবশ্য পাকিস্তান সৃষ্টির পর সেখানকার প্রথম গভর্নর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ যে বক্তব্য রেখেছিলেন, তাতে পাকিস্তানে পূর্ণ ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়েছিল। পাকিস্তানের শাসকরা তাদের জাতির পিতার কথা মেনে চলেননি। বরং ধর্মকে ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িকতাকে উসকিয়ে দিয়ে পাকিস্তানি শাসকরা নিজেরাই নিজেদের বিচ্ছিন্নতাবাদী হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিলন। পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশ যেখানে প্রায় এক কোটির বেশি সংখ্যালঘুর বসবাস ছিল- অর্থাৎ পূর্ব পাকিস্তানে বিশেষভাবে ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। লক্ষ্য ছিল পূর্বপাকিস্তানকে পশ্চিম পাকিস্তানের কলোনি হিসেবে ব্যবহার করা। পাকিস্তানের ২৩ বছর তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানে বসবাসকারী বাঙালিরা প্রতি মুহূর্তে অনুভব করত তারা পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক শক্তির আওতায় রয়েছে। শুধু শোষণ করেই পাকিস্তানিরা ক্ষান্ত ছিল না। তারা চেয়েছিল জাতিগতভাবে পূর্ব পাকিস্তানের আধিবাসী বাঙালিকে ধ্বংস করতে। একটা জাতিকে ধ্বংস করতে হলে তার ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর আগ্রাসন প্রয়োজন। পাকিস্তান সৃষ্টির পরপরই তারা সেই নীতি অনুসরণ করতে শুরু করে। তা নাহলে পাকিস্তান সৃষ্টির মাত্র এক বছর পর কী করে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পূর্ব বাংলায় দাঁড়িয়ে কী করে উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্র ভাষা করার ঘোষণা দিতে পারেন। পাকিস্তানি শাসকরা মনে করেছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশ পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ মনে-প্রাণে পাকিস্তানি বনে গেছে। ভাষা, সাহিত্য, আচার আচরণ যে বাঙালি জাতীয়তাবাদ তাদের ভেতর সুপ্ত ছিল তা তারা মোটেও গ্রাহ্য করেনি। তাই পাকিস্তান সৃষ্টির পরই তারা আদাজল খেয়ে লেগে যায় কী করে বাঙালিদের পাকিস্তানিতে রূপান্তরিত করা যায়। সে কারণেই উর্দুুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে একমাত্র রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তারা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ভাষা বদলাতে পারলে সংস্কৃতিও ক্রমাগত বদলে যাবে এবং সেই সুবাদে পাকিস্তানি ধারায় আচার-আচরণের পরিবর্তন ঘটাতে পারলে বাঙালি আর বাঙালি থাকবে না পাকিস্তানি বনে যাবে। এই ধারণা থেকেই তারা ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর আগ্রাসন চালায়। তাদের এই আগ্রাসনের কারণেই সুপ্ত বাঙালি জাতীয়তাবাদ মাথাচারা দিয়ে ওঠে। ঘুম ভাঙে বাঙালির। তারা বুঝতে পারে জাতি বিপন্ন। তাই জিন্নাহর উক্তির প্রতিরোধ করে। বুকের রক্ত দিয়ে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা এটা ভালো করে বুঝেছিল যে শুধু বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায় করে পাকিস্তান রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রভাব ও প্রতিপত্তি ক্ষুণ্ন করা যাবে না। রাষ্ট্রীয় প্রশাসন তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রশাসন, বৈদেশিক বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি সব কিছুকেই তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ রেখে বাংলার জনগণের ওপর নির্মম শোষণ চালাবে। অর্থনৈতিক প্রসঙ্গটা তখন রাজনৈতিক প্রসঙ্গতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়ে ওঠে। তত দিনে স্বাধিকারের দাবি সুনির্দিষ্ট রূপরেখায় রূপান্তরিত হয়েছে। স্বায়ত্তশাসনের দাবিও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। পাকিস্তানি শাসকদের নির্মম শাসন ও শোষণ থেকে পরিত্রাণ লাভে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ভিত্তিক ৬ দফা দাবি তখন ঘোষিত হয়। পূর্ব বাংলার একচ্ছত্র নেতা শেখ মুজিব লাহোরের মাটিতে দাঁড়িয়ে ৬ দফার কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি তার সে ৬ দফায় শোষণের প্রকৃতি ও তা নিরসনের প্রক্রিয়া বাতলে দেন। পূর্ব বাংলার জনগণ তার ৬ দফা লুফে নেয়। মাত্র দুই বছরের মধ্যে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া এই পূর্ববাংলার এমন কোন গ্রাম-পাড়া-মহল্লা ছিল না যেখানে ৬ দফা নিয়ে কোনো আন্দোলন হয়নি। ৬ দফা আন্দোলনের সময়ে বঙ্গবন্ধুকে এক নজর দেখার জন্য গ্রামাঞ্চলের মানুষ রাত তিনটা-চারটা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকত। ৬ দফার অন্তর্নিহিত তত্ত্ব উপলব্ধি করে এবং বঙ্গবন্ধুর অকৃত্রিম ভালোবাসার কারণে বাংলাদেশের জনগণ ইস্পাত কঠিন ঐক্যবদ্ধ হয়। শাসককুল বঙ্গবন্ধুকে আগরতলা মামলার এক নাম্বার আসামি করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে ক্যামেরা ট্রায়াল শুরু করে। লক্ষ্য তাকে ফাঁসি দেয়া কিন্তু বাংলার জনগণ তাদের প্রাণপ্রিয় নেতাকে গণঅভুত্থান ঘটিয়ে ক্যান্টনমেন্ট থেকে বের করে এনে ‘বঙ্গবন্ধ’ু হিসেবে ভূষিত করে। সামরিক শাসক জেনারেল আইয়ুবের পতন ঘটে, জেনারেল ইয়াহিয়া ক্ষমতায় অধিষ্ঠত হন। বঙ্গবন্ধু ইয়াহিয়াকে নির্বাচন দিতে বাধ্য করেন। ৬ দফাকে গণম্যান্ডেট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বঙ্গবন্ধু সে নির্বাচনে ১৬৯টির মধ্যে ১৬৭টি আসন লাভ করে পূর্ববাংলার একমাত্র মুখপাত্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তার পর শুরু হয় ষড়যন্ত্র। পাকিস্তানি শাসকরা ভেবেছিল প্রধানমন্ত্রীর টোপ দিয়ে তারা বঙ্গবন্ধুকে ছয় দফা প্রসঙ্গে আপস করিয়ে নেবে। কিন্তু গোলটেবিল বৈঠকে বঙ্গবন্ধু তা মেনে নেননি। বরং তিনি বৈঠকে জানিয়ে দেন তিনি প্রধানমন্ত্রিত্ব চান না। বাংলার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চান। পাকিস্তানি শাসকরা জাতীয় সংসদের অধিবেশন ডেকেও তা বসতে দেননি। ২৫ মার্চের কালো রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিরীহ বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এর পূর্বেই বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। সেই থেকে বাংলাদেশ একটা স্বাধীন রাষ্ট্র। রাজনৈতিক অঙ্গনে যারা প্রায়ই এখন ছবক দিয়ে থাকেন অতীত নিয়ে ঘাটাঘাটি করে আর লাভ কী। অর্থাৎ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল যে পটভূমি তার পর্যালোচনার কোনো প্রয়োজন নেই। তাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরব পটভূমিতে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে তারা ওই রূপ উক্তি করে। আজ এটা স্পষ্ট, ভাষা আন্দোলনই স্বাধীনতার পটভূমি রচনা করে। ভাষা ও সংস্কৃতি থেকে যে জাতীয়তাবাদী চেতনার জন্ম তা প্রতিষ্ঠিত করতে না পারলে জাতি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হতো না। বরং পাকিস্তান রাষ্ট্রে পাকিস্তানিদের সাথে ক্রমাগত সংশ্লিষ্ট হয়ে বাঙালিত্বের মৌলিকত্ব হারিয়ে বসত। জতিসত্তা বিস্মৃতির অতল গর্ভে তলিয়ে যেত। হয়তো ৫০ বছর পর মানুষ উর্দু ভাষায় কথা বলতো। ধর্মরাষ্ট্র পাকিস্তানে এখন যা ঘটছে তার থেকেও এখন আমরা বেশি বিপর্যস্ত হতাম। ভাষা আন্দোলন তাই আমাদের এই বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছে। বাংলা যে শুধু স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা নয়। বাঙালি বলতে যা বোঝায় ভাষা-সাহিত্য, সংস্কৃতি-ঐতিহ্য মননশীলতায় আমরা আজ বাঙালি। ভাষা তাই আমাদের স্বাধীনতার সোপান। তবে স্বাধীন বাংলাদেশে আজো আমরা আমাদের ভাষা সংস্কৃতিতে নিরাপদ নই। পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা এখনো কাজ করে চলছে। ১৯৭৫ এর প্রতি বিপ্লবের পর সামরিক শাসনের ছত্রছায়ায় জেনারেল জিয়া স্বাধীন বাংলাদেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছিল। স্বৈরশাসনের সুবাদে স্বাধীনতা বিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল বুদ্ধিজীবীরা আবার বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে তারা সাংস্কৃতিক অঙ্গনের রাপান্তর ঘটানোর চেষ্টা করে। তত দিনে বাংলাদেশের প্রকৃত বুদ্ধিজীবী, শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক সেবীরা আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতিকে এমন এক পর্যায়ে পেঁৗছে দিয়েছে যারা রূপান্তর আর সম্ভব নয়। হত্যা ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন করতে পারলেও সমাজ ও সংস্কৃতির পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন করতে পারে বলে মনে হয় না। বাঙালি শব্দটাকে তারা সাময়িকভাবে বর্জন করতে সক্ষম হলেও বাঙালি বলতে যা কিছু বোঝায় তার কিছুই পরিবর্তন করতে পারেনি। আমাদের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের বাস্তবতাকে সঠিকভাবে উপলব্ধি করে ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের পথে এগোতে হবে। সংস্কৃতি এগিয়ে থাকবে আর রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে থাকব এটা কখনো বাস্তবতা বলে মেনে নেয়া যায় না। যারা প্রতিক্রিয়ার ধারায় রাজনীতি ও সংস্কৃতিকে পিছিয়ে দিতে চাচ্ছে তারা কখনো সফল হবে না। স্বাধীন বাংলাদেশের বাংলাভাষা, সাহিত্য-সংস্কৃতি, আচার-আচরণ সব কিছুই বিদ্যমান থাকবে যদি আমরা বাঙালি থাকি।

সমুদ্রতীরবর্তী শহর হিসেবে টেকনাফ উপজেলার সংস্কৃতি মিশ্র প্রকৃতির। পুর্ব হতেই বার্মার সাথে এ অঞ্চলের মানুষের সম্পর্ক থাকায় এবং রাখাইন নামক নৃতাত্বিক জনগোষ্ঠী বসবাস করায় টেকনাফে বাঙালী এবং বার্মিজ সংস্কৃতির এক অভূতপুর্ব সমন্বয় লক্ষ্য করা যায়। যাতে অত্র ইউনিয়নের ভাষা মিশ্র হয়ে নতুন এক ধারায় প্রবর্তিত হয়েছে.........................যেমন মুই যোমোর গোই (যার মানে হচ্ছে আমি চলে যাচ্ছি।)

আঞ্চলিক --------------------পরিভাষা

এ্যাঁডাম ----------------------সামর্থ্য।

মাইল্যাপীড়া----------------- ম্যালেরিয়া রোগ।

ঝোলাহীড়া------------------- পেঠের অসুখ।

ল্যাডগ্যঁই--------------------শুয়ে পড়ো।

ল্যাডা -----------------------ক্ষীণকায়।

হ্যান্নাক ---------------------অনর্খক।

আথিক্যা--------------------- হঠাৎ।

ঘুইট্ট্যা---------------------- গাছের ঘোড়ালী বিশেষ।

যা গই-----------------------চলে যাও।

কুইজ্জ্যা ---------------------শুকনা খড়ের স্তপ।

অঁনে----------------------- আপনি।

থিঅ্যা--------------------- দাঁড়াও।

 "আর মাইজ্জ্যাদারে বাইজ্জ্যাইয়েরে কুইজ্জ্যার তলে ফেলাই এইজ্জে ""

অর্থ (আমার মেঝো ভাইকে মেরে শুকনো খড়ের স্তপের নীচে ফেলে রেখেছে)

অত্র এলাকার প্রিয় গানের শিল্পীদের মধ্যে রয়েছ শেফালী ঘোষ,সিরাজ ,বুলবুল আক্তার,
আলোচিত গানের মধ্যে রয়েছে ..........................ও নাতি বরই খা,বরই খা হাতে লইয়া নুন,,,,,,
মধু হই হই আরে বিষ খাওয়াইলা কোন কারনে,,,,,,,,,,,,,,,,
 

ছবি



Share with :
Facebook Twitter